আলীকদমে জমি দখল ও হুমকি: ছাত্রদল নেতা সাদ্দামের বিরুদ্ধে শিক্ষক পরিবারের অভিযোগ।

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধিঃ   বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। উপজেলা সদরের খুইল্যা মিয়া পাড়ার এক স্থায়ী বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এই অভিযোগ করেন।

জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা মিয়া ও তার ছেলে, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলামের পরিবারের বসত ভিটার ১০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মোঃ সাইফুল ইসলামের পরিবারে বর্তমানে তার স্ত্রী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাবা গোলে নূর বেগম, বড় মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাবা শারমিন আক্তার এবং ছোট ছেলে সাওন রয়েছেন। তারা সবাই সাদ্দামের এমন কান্ডে ভীত হয়ে আছেন। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও তা পাচ্ছেন না।

গত ০৪ মে, ২০২৫ তারিখে সাদ্দাম হোসেন সন্ত্রাসী কায়দায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মোঃ সাইফুল ইসলামের বসতভিটার মোট ১০ শতাংশ জমিতে থাকা সকল গাছপালা কেটে নিয়ে যান। এর আগে তিনি জমির গাছ কাটার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে এবং গায়ের জোরে তিনি সব গাছ কেটে ফেলেন।

বড় মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাবা শারমিন আক্তার জানান, সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তারা থানায় অভিযোগ দিতেও সাহস পাচ্ছেন না, কারণ সাদ্দাম প্রশাসনকেও ভয় দেখাচ্ছেন। বর্তমানে তাদের পরিবার সাদ্দাম কর্তৃক মৃত্যুর হুমকির সম্মুখীন।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদলের নেতা হলেও তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। জানা যায়, সাদ্দামের বাবা বাদশা মিয়ার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এক সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। এখন পিতাকে আড়ালে রেখে ছাত্রদলের নেতা হয়ে শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বাড়িতে না থাকার সুযোগে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং গাছ কেটে ফেলছেন।

অভিযোগকারী বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, সাদ্দামের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *