Tuesday, July 16, 2024
BanglaGallerytopপ্রেমবিনোদনভালোবাসার গল্পসাহিত‌্য

ভালবাসার গল্প, মায়া ! পর্ব-৮

ভালবাসার গল্প, মায়া !
পর্বঃ ৮

অরিনের বাবা রহমান মির্জা হার্ডের রোগের কারনে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ডাঃ হুমায়ুন সাহেব বলে দিয়েছে সকালে একটু হাটতে ও টেনশন কম করতে। হুমায়ুন সাহেব হলো অরিনদের পারিবারিক ডাক্তার।

উনার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি গ্রামে, রহমান মির্জা ও ডাঃ হুমায়ুন একই ক্লাসে পড়াশুনা করেছেন। দুজনে খুবই ভাব ছিলো, তারা যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তখন একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে দুইজনই, ডাঃ হুমায়ুন একটু স্মার্ট ও সুদর্শন মেধাবী ছিলো। রহমান মির্জা কিন্তু এতো মেধাবী নয় , সুদর্শন অথচ গায়ের রং শ্যামলা প্রকৃতির ।

প্রথমে রহমান মির্জার সাথে সেই মেয়েটির পরিচয় হয়, নাম তার তিন্নি। দু’জন দু’জনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলো। কেউ কাউকে মনের কথা বলতে পারছিলোনা ।

এদিকে হুমায়ুনের সাথে একটি সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় তিন্নির। হুমায়ুনের স্মার্টনেস দেখে তিন্নি প্রেমে পড়ে যায়। হুমায়ুন খুবই স্পষ্টবাদী সহজেই যেকোন মেয়ের সাথে মিশতে পারে।

তখন তিন্নিকে নিয়ে রহমান একটি চিঠি লিখেছে, দুই লাইনের চিঠিটি এ-রকম,

ওহে অচেনা প্রিয় চিঠির শুরুতে শুভেচ্ছা নিও,
প্রথম দেখায় তোমার প্রেমে পরেছি, ভালোবাসা রাখিয়ো”
ইতি
রহমান মির্জা

রহমান মির্জা চিঠিটি কিভাবে তিন্নি কে দেবে তা নিয়ে খুবই ইতস্তত বোধ করছিলো। রহমান মির্জা ভাবল, হুমায়ুন কে দিয়ে চিঠিটি দিলে কেমন হয়!

রহমান মির্জা কিছু না ভেবে হুমায়ুন কে বলল, দোস্ত আমার একটা উপকার করবি ? হুমায়ুন বললো, বল আগে তারপরে দেখা যাবে, কি করা যায়। রহমান চিঠিটি হুমায়ুনের হাতে দিয়ে বললো, দোস্ত এটা তিন্নিকে দিতে পারবি ? হুমায়ুন বলল, তিন্নি!
মনে মনে চোট খাটো একটা ধাক্কা খেলো, নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, -দেতো কি করতে পারি দেখছি।

এমতাবস্থায় , হুমায়ুন তিন্নির দিকে যাচ্ছিল। তিন্নিতো হুমায়ুনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে অনেক আগে থেকেই। তিন্নি মনে মনে ভাবছে, নিশ্চয়ই হুমায়ুন তাকে কিছু বলতে চায়। হুমায়ুন কাছে এসে তিন্নিকে বললো, তোমার সাথে কথা আছে ,এদিকে এসো ।
দু’জনে হেটে হেটে মাঠের একপাশে চলে যায়, হুমায়ুন রহমান মির্জার দেওয়া চিঠিটি তিন্নির হাতে দিয়ে বলে,
-এটা এখন খোলোনা, বাসায় গিয়ে খোলো ।
তখন তিন্নি খুবই লজুক হয়ে গেল, তবে খুশী-ও হলো।

তিন্নি বাসায় গিয়ে চিঠিটি পড়ে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা। রহমান মির্জা আমাকে ভালোবাসে এটা তো জানতামনা ! হুমায়ুনকে আমি মনে প্রানে ভালোবাসি অথচ হুমায়ুন রহমানের চিঠি নিয়ে আসলো !

রাতের খাবার খেতে পারলোনা তিন্নি ,সারারাত ভেবে ভেবে চলে গেলো কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারলোনা।

এদিকে হুমায়ুনের মনেও ঝড় বয়ে গেলো, মনে মনে একটু একটু মায়া অনুভব করেছিলো তিন্নির প্রতি। অথচ মির্জা ভালোবাসে তাকে, বন্ধুর জন্য, শুভকামনা। হুমায়ুন মনে মনে এই শান্তনা নিয়ে পড়তে বসলো !

এদিকে রহমান আজ এক সাপ্তাহ তিন্নিকে না দেখে অবাক হলো। কারণ সে স্কুলে আসছেনা কেনো, হুমায়ুনের সাথেও দেখা হচ্ছিলোনা।

বড় একটি ট্রাক তিন্নিদের বাড়ির সামনে দাড়ানো, তিন্নির বাবার বদলি জনিত কারনে যশোরে চলে যেতে হচ্ছে আজই, লুৎফর সাহেব তিন্নিকে বললেন, বিদ্যালয়ে গিয়ে টিসি নিয়ে আসতে। তিন্নির টিসির ব্যাপারে হেড স্যারের সাথে আগেই সব বলেছেন টেলিফোনে।

তিন্নি স্কুলে যাওয়ার সময়, দেখলো রহমান মির্জা দাড়িয়ে আছে ! তাকে দেখে তিন্নি এগিয়ে গিয়ে বলতে লাগলো-রহমান মির্জা, তুমি আমার বন্ধু। তোমার কথা রাখতে পারছিনা ! আমি আরেকজনকে ভালোবাসি !

দাঁড়িয়ে থাকা রহমান মির্জা, কথাগুলো শুনছে আর চরম কষ্ট অনুভব করছে ! কিছুই বললো না ! শুনেই গেল !

হুমায়ুনকে শেষ বারেরমত একবার দেখার জন্য আকুল হয়ে ছিলো তিন্নি। তিন্নি দাঁড়িয়ে থাকা রহমান মির্জাকে আরো বললো- রহমান মির্জা, আমি যদি কখনো কোন ভুল করে থাকি, ক্ষমা করে দিও ! আজ আমরা খুলনায় চলে যাচ্ছি, হয়তো আর কখনো দেখা হবেনা, মন দিয়ে পড়াশুনা করো !

দাঁড়িয়ে থাকা রহমান মির্জা, কিছুই বললোনা তিন্নিকে ! কিন্তু রহমান মির্জার চোঁখ দুটো যেন সব বলে দিচ্ছে ! তার চোঁখ দুটো দিয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পেড়ছে !

রহমান মির্জার এই অবস্থা দেখে তিন্নি’রও কেন যেন কষ্ট হচ্ছে। আবার হুমায়ুনের জন্যও কষ্ট হচ্ছে ! হুমায়ুনের সাথে শেষ দেখাটাও হলো না ! তিন্নি চোখ দিয়েও জল আসছে, সে অতিকষ্টে চিরচেনা ক্যাম্পাসকে বিদায় জানালো ! তিন্নির শুধু এককথা-ভাল থেকো তোমরা সবাই, মিস করবো তোমাদের! আমাকে ক্ষমা করো,যদি কোন ভুল থাকে ! হয়ত কখনো আর দেখা হবেনা!

এদিকে লুৎফর সাহেব বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র গুলো গাড়িতে তুলে রওয়ানা হলো যশোরের উদ্দেশ্য।

এরপর মেট্টিক পরিক্ষায় রহমান মির্জা-দ্বিতীয় শ্রেনী, হুমায়ুন- প্রথম শ্রেনী অর্জন করলো। হুমায়ুনের মামা ঢাকায় থাকে, ভালো রেজাল্ট করাতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে, সেই হুমায়ুন আজ ডাঃ হয়ে বন্ধু রহমান মির্জা’র গৃহ চিকিৎসক। দুই বন্ধু পুরনো গল্প করে হাসিতে গড়িয়ে পড়লো !

——————————————(….আসছে, আরো….)

  • লেখকঃ দেলোয়ার হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *